Notice :
  1. সবাইকে স্বাগতম ইসলামিক স্টরি বিডি ডটকম এ

ইফতার এবং সাহরীর দোয়া


 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

মাসআলা: সময় ড়ওয়া মাত্র দ্রুত ইফতার করা সুন্নত। সাফল ইবনে সআদ (র:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন যে- মানুষ যতদিন দ্রুত ইফতার করাবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।(মিশকাত-১/১৭৫)হযরত আবু হুরায়রা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন যে-মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন আমার বান্দাদের মাঝে যারা দ্রুত ইফতার করবে তারা আমার নিকট অতিপ্রিয়।

মাসআলা: রোযাদারের মাঝে ইফতার বিতরণ করা অত্যন্ত পূণ্য ও সওয়াবের কাজ। তবে শর্ত হল রিয়া বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে না হতে হবে।আর সাহরী ও ইফতারিতে সন্দেহযুক্ত খানা সম্পূর্নভাবে বর্জন করা অতিব জরুরী।(আপ কে মাসায়েল-৩/৪২৪)

রোজা রাখার নিয়ত:

نويت ان اصوم غدا من شهر رمضان المبارك فرضا لك ياالله فتقبل منى انك انت السميع العليم

(নাওয়াইতু আন আছুমা গদাম মিং শাহরি রমাদ্বানাল মুবারকি ফারদ্বল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আংতাস সামীউল আলীম)

অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

রোজার বাংলা নিয়তঃ হে আল্লাহ পাক! আপনার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকালের রমাদ্বান শরীফ-এর ফরয রোযা রাখার নিয়ত করছি। আমার তরফ থেকে আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা , সর্বজ্ঞাত।

ইফতারের বাংলা নিয়ত 

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রা-হিমীন।)

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্ব দ্বারা ইফতার করছি।

ইফতারের বাংলা দোয়াঃ হে আল্লাহ তায়ালা আমি আপনার নির্দেশিত মাহে রমাজানের ফরয রোজা শেষে আপনারই নির্দেশিত আইন মেনেই রোজার পরিসমাপ্তি করছি ও রহমতের আশা নিয়ে ইফতার আরম্ভ করছি। তারপর “বিসমিল্লাহি ওয়া’আলা বারাকাতিল্লাহ” বলে ইফতার করা।

মাসআলা: খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দিয়ে ইফতার করলেও মুস্তাহাব আদায় হবে। তবে লবণ দিয়ে ইফতার শুরু করা পূণ্যের কাজ মনে করা ভুল।(বেহেশতী যেওর-৩/১৫,সুনানে ইবনে মাজাহ-১২২)

মাসআলা: ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়। তাই ইফতারের সময় দুনিয়াবী কোন কাজ-কর্মে বা কথা-বর্তায় লিপ্ত না হয়ে দোয়ায় রত থাকা উচিত। তবে বর্তমানে দেশে প্রচলিত ইফতার পার্টি বা ইফতার মাহফিল গুলোতে সম্মিলিত ভাবে হাত উঠিয়ে দোয়ার জন্য যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় কোরআন হাদীস ও ফেকহার কিতাবাদিতে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।তাই ব্যক্তিগতভাবে হাদীসে বর্ণিত দোয়াসমূহ পাঠ করাই প্রকৃত সুন্নত। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি দোয়া বর্ণিত রয়েছে : বায়হাকী শরীফে ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি ইফতারের সময় এই দোয়াটি পড়তেন- হে অধিক ক্ষমার মালিক আমাকে ক্ষমা করে দিন । মুয়াজ ইবনে জুহরা (রহ:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন এই দোয়াটি পড়তেন।

হে আল্লাহ! আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই রোযা রেখেছি এবং আপনার দেয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করেছি।( বোখারী-১/২৬৩, সুনানে আবু দাউদ (মুরসাল) হাদীস-২৩৫৮,জাওয়াহিরুল ফিকহ -৩/৫২২, আলমগীরী- ১/২০০) ইবনে ওমর (র:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) ইফতার শেষে এই দোয়াটি পড়তেন -পিপাসা দু্রিভুত হল,শিরা উপশিরাগুলো সিক্ত হল এবং আল্লাহ চাহেন তো সওয়াব নির্ধারিত হল। ( বাইহাকি-১/৫৭৪, মিশকাত-১৭৫)

Please Share This Post in Your Social Media

© 2020 islamicstorybd.com