Notice :
  1. সবাইকে স্বাগতম ইসলামিক স্টরি বিডি ডটকম এ

বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাস


বর্তমানে বাংলাদেশ যে ভূখন্ড নিয়ে গঠিত তা শত শত বছর ধরে পুর্ব বাংলা নামে পরিচিত ছিল।আর এ আদিবাসীদের বলা হত বাঙালি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বেশ পুরনো। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়।বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বিজয় আসে ১২০১ খৃষ্টাব্দে।ইখতিয়ারউদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের মধ্যে দিয়ে প্রথম স্বাধীনতায় উদ্ভাসিত হয় এ দেশের মানুষ।১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য কেড়ে নিয়েছিল ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। বাংলার লড়াকু জনগন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শুরু করে আন্দোলন। আন্দোলনের সুদীর্ঘ পথ ধরে এদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের সুপ্রসস্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে।এদেশের মানুষের স্বাধীনতা।প্রিয়তার নজির যুগ যুগ ধরে ইতিহাস অবলোকন করেছে।শত শত আন্দোলন সংগ্রাম বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম এগিয়ে যায়।এদেশের আলেম।উলামা পীর মাশায়েখ গব সব সময়ই জন চেতনার সাথে থেকেছেন।নেতৃত্ব নিয়েছেন বৃটিশ সম্রাজ্য বিরুধী আন্দোলনে। শহিদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, ফাসিতে ঝুলেছেন, কারা বরন করেছেন,ইতিহাস তার জলন্ত প্রমান।
#স্বাধীনতা আন্দোলনে উলামায়ে কেরামের ভুমিকা,
উলামাদের মুখে যখন স্বাধীনতার কথা শুনে কিছু নাস্তিক ঘরোয়া লোকদের ভ্রু কুচকে যায়,ভাজ পড়ে কপালে,শুরু হয়ে যায় চুলকানি।জ্বলতে থাকে তুষের আগুনের মত।সত্যিকারের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে চায় না।পড়তে ইচ্ছে করে না।এমন কি লিখতে ও চায় না।এরকম এক কানা অন্ধের মত চলতে থাকে।এদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধু ১৯৭১ সালে হয়নি।৯মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ হল স্বাধীনতা।সংগ্রামের শেষ অধ্যায়।
সত্যিকারের স্বাধীনতার সংগ্রাম জানতে হলে নিরপেক্ষ ভাবে পিছনের ইতিহাসের দিকে নজর দিতে হবে। ১৯৫৭ সালে এদেশকে ইংরেজ রা দখল করে নিয়েছিল।প্রায় দুই শত বছরের ইতিহাস নিরপেক্ষ ভাবে পর্যালোচনা করলে অন্তর আত্না সাক্ষী দিবে যে স্বাধীনতা আন্দোলন শতভাগ পরিচালিত হয়েছে এদেশের উলামায়ে কেরাম এবং তাদের ছাত্রদের মাধ্যমে।।
১,বালাকোটের ময়দানে রক্ত ঢেলে রাজপথ পিচ্ছিল করেছেন সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ বেরেলবি রাঃ
২,শামেলীর ময়দান রক্তে রঙিন করেছেন হাফেজ জামেন শহীদ রাঃ
৩,স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য “তাহরিকে রেশমি রুমাল, নামে আন্দোলন পরিচালনা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি রাঃ।
৪,১৯২০ সালে সর্বপ্রথম ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন যিনি তিনি হলেন শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রাঃ
৫,১৯২৯ সালে কংগ্রেস প্লাটফর্ম থেকে পুর্ন স্বাধীনতার প্রস্তাব গ্রহনের দাবী তুলে ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
৬,১৯৪৭ সালে বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন মাওঃ যফর আহমদ উসমানী রাঃ
৭,ভারতীয় মুসলমানদের বৃটিশ বাহিনিতে যোগ দিয়ে বলকান যুদ্ধে মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে গুলি চালানো হারাম ফতুয়া দিয়েছিলেন সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানি রাঃ
৮, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের ইতিহাসের মধ্যে নেযামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে চার শীর্ষ নেতার অন্যতম প্রান পুরুষ দারুল উলুম দেওবন্দের তারকা তুল্য সন্তান মাওলানা আতাহার আলী রাঃ।তার মানোনিত পার্থী বগুড়ার এডভোকেট মোঃ আলী সহ ৫২ জন যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন।আর মোহাম্মদ আলী সাহেব প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
৯,১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মাওলানা হামিদ খান ভাষানী পাকিস্তানকে বলেছিলেন আসসালামু আলাইকুম, এবার যেতে পারেন।
১০, জামাতের প্লাটফর্ম ইত্তেহাদুল উলামা থেকে এসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সাথে যোগ দেন স্বতন্ত্র ধর্ম মন্ত্রনালয়ের প্রবক্তা মাওলানা অলিউর রহমান রায়ের বাজার বধ্যভুমিতে বুদ্ধিজীবী হত্যার সময় শহীদ হন।
ঐতিহাসিক টমসনের বক্তব্য,তিনি বললেন আমি দিল্লিতে এসে মানুষ পোড়ার গন্ধ পেলাম।তাবুর পিছনে যাওয়ার পর দেখি সেখানে জলন্ত আগুন। চল্লিশ জন আলেমকে জ্বালানো হচ্ছে।কিছুক্ষন পর দেখলাম আরো চল্লিশজনকে উলঙ্গ করে জ্বালানোর জন্য আনা হল।তখন এক বৃটিস অফিসার আলেমদের সম্বোধন করে বলল,,তোমরা তো দেখেছ চল্লিশ জনকে পোড়ানো হল,তোমরা যদি বল যে, তোমরা বিদ্রোহে অংশ গ্রহন করোনি তাহলে তোমাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে।
টমাস বলেন, আমার সৃষ্টি কর্তার শপথ,আমি দেখলাম তাদের একজন ও ইংরেজ কথায় রাজি হয়নি।এছড়া ও অভিযুক্ত অনেক আলেমকে ধরে এনে হত্যা করা হল।তাদের জমি জমা, সহায়, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়।অনেককে ফাসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।শেরশাহ নির্মিত গ্র‍্যান্ড ট্রাংক রোডের দু পাশের অবস্থিত অনেক গাছে অবস্থিত লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল অনেক দিন যাবত। কেন? কি কারনে? এর একটাই জবাব।স্বাধীনতার জন্য।
শাকের হুসাইন শিবলি বলেন,তোমার জন্য হে স্বাধীনতা আর কতোবার ভাসতে হবে রক্ত গঙ্গায় আর কতোবার দেখতে হবে খান্ড দাহন।
মুসলিম জনতা ওলামায়ে কেরাম কায়েদে আযম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ কে নেতা মেনে তারই নেতৃত্বে ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তান আন্দোলনে। তখন মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ মুসলিম লীগের জনসভায় দ্বার্থহীন ভাষায় কোরান উচিয়ে ঘোষনা করেছিলেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হলে আমাদের নতুন কোন সংবিধান প্রয়োজন হবে না।১৪ শত বছর আগের এ সংবিধান হবে আমাদের সংবিধান। কোরানের আইন বাস্তবায়নের লক্ষে উজ্জীবিত হয়েছিল বাংলার সব শ্রেণীর মুসলিম জনতা,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম।।তাদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র হলে সে খানে কোরানের আইন বাস্তবায়ন সম্ভব। সেই চেতনাকে লালন করে ইসলামি আদর্শের বন্ধনে ১৯৪৭ সালে এ দেশের মুসলমানরা একটি স্বাধীন ভূখন্ডের অধিকার লাভ করে। প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান। ধর্ম আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গির যথেষ্ট মিল থাকায় প্রায় ১১ শত মাইলের বিশাল ফারাক থাকা সত্বেও আমরা পাকিস্তানের ভাগে পড়ি।জন্ম হয় পূর্বপাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের। বহু রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার সূর্য উদ্দার হয়।স্বপন ছিল বিশাল, প্রত্যাশা ছিল দিগন্ত প্রসারি।কিন্তু দিন না যেতেই শুরু হয় আবার দন্দ্ব,সংঘাত,বৈষম্য, বে ইনসাফি,অগনতান্ত্রিক আচরন পূর্বপাকিস্তানের সাথে।ধর্ম ও আদর্শের আড়ালে স্বার্থ হাসিলের ন্যক্কারজনক খেলায় মেতে উঠে রাজনৈতিক নেতারা।ক্ষমতার মোহে পড়ে ভুলে গেলেন কি ছিল ওয়াদা।মাওলানা শিব্বির আহমেদ উসমানী কস্ট পেল্বন,রাগ করলেন, কায়েদে আযম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ এর নিকট গেলেন, বললেন,কোথায় সে আপনার ওয়াদা, কোথায় সেই কোরানের আইন।বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি? জিন্নাহ বললেন, মাওলানা সাব,ইয়ে তো সিয়াসি ওয়াদা থা,এটা তো রাজনৈতিক ওয়াদা।কখনো কখনো বলতেন,ইয়ে তো বাত কি বাত থি,অর্থাৎ এটা তো কথার কথা।১৯৬৫ সালে নির্বাচনের পুর্বে আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের ওলামায়ে কেরামকে ডাকলেন প্রেসিডেন্ট হাউজে সমর্থন আদায়ের জন্য।উদ্বোধনী বক্তব্যে আইয়ুব খান ইসলামের অনেক কাজ করেছে বলে এক ফিরিস্তির বয়ান দিলেন।এক পর্যায়ে শামসুল হল ফরিদপুরি রহঃ বললেন,আপনি ইসলামের জন্য কিছুই করেন নি।করেছেন শুধু ধোকাবাজি।আইয়ুব খান রেগে ক্ষোভে বললেন,আয় মোল্লা সাবধান কি জিয়ে, মাই পাঠান কা বাচ্চা পাঠান হু,অর্থাৎ হে মোল্লা তোমাকে সাবধান, আমি পাঠানের বাচ্চা পাঠান,খবর আছে।আইয়ুব খানের মুখের উপর বলিষ্ঠ কন্ঠে ফরিদপুরি রাঃ বললেন,আগার তো পাঠান কা বাচ্চা পাঠান হু, তো মাই মুসলমান কা বাচ্চা মুসলমান হু,আল্লাহ কে ছেওয়া কেছি কো নেহি ঢরতা হু।অর্থাৎ তুমি পাঠানের বাচ্চা পাঠান হলে আমি মুসলমানের বাচ্চা মুসলমান, আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পাই না।এক ধমকে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বিড়ালের মত লেজ গুটিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করল।
একই পতাকা তলে সমবেত হয়ে পূর্বপাকিস্তানের জনগণের মনে আশা জেগেছিল যে,সমাজ বদলাবে,বিপ্লব ঘটবে।বৈষম্য থাকবে না,অবসান হবে নিপিড়ন নির্যাতনের। কিন্তু না তা হতে দিল না।বৈষম্য রয়ে গেল, জুলুম নির্যাতন সমান তালে চালাল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগুষ্টি। বাংলার লড়াকু জনগন বুকে সাহস বেধে ফের লড়াই শুরু করলেন।স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন।শুরু হল মুক্তির সংগ্রাম।
#স্বাধীনতা
মার্চ আমাদের স্বাধীনতার মাস।স্বাধীনতা শব্দটি এক বিরাট শক্তি।এই স্বাধীনতা কেন? কেন মানুষ পরাধীনতা।মেনে নেয় না।জীবন বাজী রেখে লড়াই করে আজাদির জন্য।স্বাধীনতা মানে ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক, রাস্ট্রিও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক মুক্তি,রাজনৈতিক অধিকার এবং মানবাধিকার নিয়ে বেচে থাকা,আল্লাহ তায়ালা বলেন,কোন পুরুষ যেন অনু পুরুষ কে উপহাস না করে,কেননা হতে পারে যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাস কারী হতে উত্তম।কোন নারী যেন অন্য নারীকে উপহাস না করে,কেননা হতে পারে সে উপহাস কারীনি হতে উত্তম।(হুজরাত১১)
মানব জীবনে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বীনের ক্ষেত্রে কোন জোরজবরদস্তি নেই।(বাকারা২৫৬)
এখানে ধর্ম চিন্তা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।
খলিফাতুল মুসলিমিন অর্ধজাহানের বাদশাহ উমর রাঃ শুক্রবার খুতবা দিতে দাড়িয়েছেন।একজন সাধারণ নাগরিক বললেন,আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দিন তার পর খুতবা দিন।
উমর রাঃ বললেন, কি প্রশ্ন তোমার?
সে বল্ল, সরকারি কোষাগার থেকে আমরা পেয়েছি একটি করে চাদর।আপনার গায়ে দুটি কেন?
উমর রাঃ স্বীয় পুত্রের দিকে ইশারা করে বললেন, উত্তর দাও,পুত্র ইবনে উমর রাঃ দাড়য়ে বিনয়ের সাথে বলল, অপর চাদরটি আমার। আমি আমার বাবাকে পরতে দিয়েছি।লোকটি বলল, উমর, এখন খুতবা দিন।এ হল অধিকারের স্বাধীনতা।
পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের জুলুম নির্যাতনের প্রতি বিরক্ত হয়ে মুসলিম বাঙালির রক্তে প্রতিরোধের আগুন জ্বলতে থাকে।স্বাধীনতার স্পৃহা নিয়ে পুর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগন সংঘটিত হতে লাগল।
*২ মার্চ ১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে বিশাল এক সভায় সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়।
*৩মার্চ ১৯৭১ পল্টন ময়দানের ঐতিহাসিক জনসভায় “স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, কতৃক স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রচার করা হয়।
* ৪ মার্চ ১৯৭১ সালে মাওঃ ভাষানী এক বিবৃতিতে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সাত কোটি বাঙালীর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবী জানান।
*৭মার্চ ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে স্মরনকালের বিশাল জন সমুদ্রে শেখ মুজিব বলেন,
১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি।
১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করে ও আমরা গদিতে বসতে পারিনি।
১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে ১০ বছর আমাদেরকে গোলাম করে রেখেছে।
১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সময় আমাদের ছেলে মেয়েদের কে গুলি করেছে।
আরো বলেছেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
*৯ মার্চ ১৯৭১ ঃ মাওঃ ভাসানী এক জনসভায় বলেন, সাত কোটি বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
*২২ মার্চ ১৯৭১, ঢাকার সংবাদ পত্রে,স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নির্ধারিত স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রঙিন প্রতিকৃতি প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়।
*২৩ মার্চ ১৯৭১,ঢাকায় বিশেষ উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান ছিল,জয় বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজ। দেশের সর্বত্র প্রতিটি গৃহে প্রতিটি যানবাহনে পতপত করে উড়তে থাকে বাংলার পতাকা।
* ২৫ মার্চ১৯৭১ঃইয়াহইয়া খান বাঙালির উপর গনহত্যা চালানোর হুক দিয়ে রাত্রে ঢাকা ত্যাগ করেন।বর্বর পাক বাহিনি কাপুরুষের মত ঝাপিয়ে পড়ে বাংলার জনপদে। ঢাকা সহ সারা দেশে রক্ত,লাশ আর স্বজন হারানো র হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠে।২৫ মার্চ কালো রাতের পর থেকে চূড়ান্তভাবে বীরবাঙালী প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে।
*২৬/২৭ মার্চ ১৯৭১.চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র হতে জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবের পক্ষে ঘোষণা করেছিলেন স্বাধীনতার। তার ঘোষনা শুনে দিক নির্দেশনাহীন ছাত্র জনতা তরঙ্গায়িত হল বঙ্গোপসাগরে উর্মিমালার মত।স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল ঢেউ তুলল শহরে বন্দরে অলিতে গলিতে রাজপথে, বীরবাঙালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর।
২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের ইতিহাস বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। রক্তের ইতিহাস, বিজয়ের ইতিহাস।স্বাধীনতার যুদ্ধ একদিন শেষ হয় পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ জায়গা করে নেয় একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে।
আমাদের স্বাধীনতা অধিক ত্যাগ, আত্নদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।কিন্তু এই স্বাধীনতা প্রকৃত অর্থে আমাদের স্বাধীন করেনি।দেয়নি মুক্তি ও।একমাত্র ভৌগলিক স্বাধীনতা ই আমাদের সামন্য দৃশ্য মান।সংবিধান জনগনকে রাস্ট্রের মালিকানার অধিকার দিলেও বর্তমানে রাস্ট্রের মালিকানা বাস্তবে শাসক শ্রেণীর করতলে।সমস্টিগত ভাবে মানুষ স্বাধিনতার সুফলভোগি হতে পারেনি।তার অধিকার সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত ।
#গনতন্ত্র ও সুশাসন
*বাংলাদেশে সুশাসনের দায়বদ্ধতা স্বচ্ছতা দুর্নীতি মুক্ত কি আমরা পেয়েছি?
*বাংলাদেশ কি পেয়েছে গনতান্ত্রিকতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ?
*আমাদের পুলিশ বিজিবি এবং সেনাবাহিনী কি ব্যবহার হয়না দলীয় স্বার্থে?
*নির্বাচন কমিশন কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ?
*সাহায্যের নামে।দাতা গুষ্টি নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি করে না?
*বুদ্ধিজীবিরা কি অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বাদী?
* গণমাধ্যম কি স্বাধীন?
*গনতান্ত্রিক কর্মসূচি কি বাধাহীন চলছে?
*বাকস্বাধীনতা কি আমাদের আছে?
*জুমা কিংবা তাফসির মাহফিলে ভয়হীন ভাবে ধর্মীয় আলোচনা করা যাচ্ছে?
শিল্পী জয়নুল আবেদীন আবেগ কম্পিত ভাষায় বলেন,আমার সবুজ দেশ আজ লাল রঙের দেশ।অনেক রং ই আমরা ছবিতে ব্যবহার করি।কিন্তু সবুজের দেশে এ লাল রঙের তুলনা নাই।সবুজের দেশের বুকে যারা রক্তের লাল রঙ রেখে গেছেন তাদের রক্তের তুলনা নাই।
আমরা স্বাধীনতার মাসে স্লোগান দেই মিছিল করি ফুল দেই।সংবর্ধনা দেই।ব্যবসায়ী পণ্যের বিশেষ ছাড় দেই, শুধু ভুলে যাই তাদের কথা,আমাদের লাল।সবুজ পতাকা জড়িয়ে আছে যাদের রক্ত ও সম্ভ্রম।শহীদ মিনারে একটি লম্বা সালাম দিয়ে কয়েকটি বাসি ফুল শহীদ মিনারে ছিটিয়ে দিয়ে বোবার মত এক মিনিট নিরবতা পালন করলেই কি তাদের আত্না শান্তি পাবে??

-মাওলানা মহিউদ্দিন বাশার।
আলিম,কলামিস্ট

Please Share This Post in Your Social Media

© 2020 islamicstorybd.com