Notice :
  1. সবাইকে স্বাগতম ইসলামিক স্টরি বিডি ডটকম এ

সকাল বিকালের আমল


কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবেনা

যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও বিকালে তিনবার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।”

আবূ দাউদ, ৪/৩২৩, নং ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, নং ৩৩৮৮; ইবন মাজাহ, নং ৩৮৬৯; আহমাদ, নং ৪৪৬। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩৩২। আর আল্লামা ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় এটার সনদকে হাসান বলেছেন।

+জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দুআ

আল-হারিস ইবনু মুসলিম আত্‌-তামীমী (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে চুপে চুপে বলেন,

যখন তুমি মাগরিবের সলাত হতে অবসর হয়ে সাতবার বলবেঃ
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

হে আল্লাহ্‌! আমাকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করো।

তুমি তা বলার পর ঐ রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম হতে মুক্তি লেখা হবে। আর যখন তুমি ফাজ্‌রের সলাত শেষ করবে তখনও অনুরূপ বলবে, অতঃপর তুমি যদি ঐ দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম হতে মুক্তি লেখা হবে।”

মুহাম্মাদ ইবনু শু’আইব (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ (রহঃ) আমাকে আল-হারিস (রাঃ) সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তা চুপে চুপে বলেছেন, যাতে আমি আমার ভাইদের নিকট তা বিশেষভাবে প্রচার করি।

হাদীসের মানঃ যঈফ (দুর্বল হাদীস)। উল্লেখ্য যঈফ হাদীসের বর্ণনা হতে প্রাপ্ত বাক্যগুলো দ্বারা দুআ করা জায়েজ আছে যদি তাতে কোনো শিরকী কথাবার্তা না থাকে।

সুনানে আবু দাঊদ ৫০৭৯, মুসনাদে আহমাদ ৫০৭৭, ইবনু হিব্বান

+সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত

মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি সকালে (ঘুম থেকে) উঠে তিনবার বলবে,

أَعُوذُ بِاللّٰهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

এবং এরপর সূরা হাশর-এর শেষের তিন আয়াত পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) নিযুক্ত করবেন। এরা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকবেন। যদি এ দিন সে মারা যায়, তার হবে শাহীদের মৃত্যু। যে ব্যক্তি এ দু‘আ সন্ধ্যার সময় পড়বে, সেও এ একই মর্যাদা পাবে।

(তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব।)

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۖ هُوَ الرَّحْمَٰنُ الرَّحِيمُ – هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ ۚ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ – هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন (সত্য) উপাস্য নেই, তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনিই অতি দয়াময়, পরম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন (সত্য) উপাস্য নেই। তিনিই অধিপতি, পবিত্র, নিরবদ্য, নিরাপত্তা বিধায়ক, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, গর্বের অধিকারী। যারা তার শরীক স্থির করে, আল্লাহ তা হতে পবিত্র মহান। তিনিই আল্লাহ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবনকর্তা, রূপদাতা। সকল উত্তম নাম তাঁরই। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সমস্তই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। আর তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(সূরা হাশরঃ ২২-২৪)

হাদীসের মানঃ যঈফ (দুর্বল হাদীস)। কারণ এর সনদে খালিদ ইবনু ত্বহমান একজন দুর্বল রাবী।

তিরমিযী ২৯২২, আহমাদ ২০৩০৬, দারিমী ৩৪৬৮, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৩৭, শু‘আবূল ঈমান ২২৭২, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৭৯, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৭৩২।
+ দুনিয়া ও আখেরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন

যে ব্যক্তি এই দুআটি সকালে ৭ বার ও বিকালে ৭ বার পড়বে তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল চিন্তাভাবনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন।

حَسْبِيَ اللّٰهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব্ব।

ইবনুস সুন্নী, নং ৭১, মারফূ‘ সনদে; আবূ দাউদ ৪/৩২১; মাওকূফ সনদে, নং ৫০৮১। আর শাইখ শু‘আইব ও আব্দুল কাদের আরনাঊত এর সনদকে সহীহ বলেছেন। দেখুন, যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৬।

+ যে এই দোয়া বেশি বেশি পড়বে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট কেউ হবে না।

যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার ও বিকালে ১০০ বার এই দুআটি পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে বেশি উত্তম কিছু কেউ নিয়ে আসতে পারবে না, তবে সে ব্যক্তি (পারবে) যে তার মত এই আমল করবে বা তার চেয়েও বেশি আমল করবে।

سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।

মুসলিম ৪/২০৭১, নং ২৬৯২।

+ দশটি দাস মুক্তির অনুরূপ ওএকশত সওয়াব

যে ব্যক্তি এই দুআ দিনে ১০০ বার পড়বে সেটা তার জন্য ১০ টি দাস মুক্ত করার অনুরূপ (সওয়াব) হবে। তার জন্য ১০০ সওয়াব লিখা হবে। সে দিন বিকাল পর্যন্ত সেটা তার জন্য শয়তান থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে বিবেচিত হবে। আর কেউ (কিয়ামতের দিন) তার মত কিছু নিয়ে আসতে পারবে না। হ্যাঁ, সে ব্যক্তি ব্যতীত যে তার চেয়েও বেশি আমল করবে [৩]

১০ বার [১] অথবা (অলসতা লাগলে) ১ বার [২] বলবে অথবা একশত বার বলবে,

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

[১] নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ, নং ২৪। আরও দেখুন, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭২; ইবন বায, তুহফাতুল আখইয়ার পৃ.৪৪। এর ফযীলতের ব্যাপারে আরও দেখন, পৃ.হাদীস নং ২৫৫।
[২] আবূ দাউদ, নং ৫০৭৭; ইবন মাজাহ, নং ৩৭৯৮; আহমাদ নং ৮৭১৯। আরও দেখুন, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭০; সহীহ আবি দাউদ ৩/৯৫৭; সহীহ ইবন মাজাহ ২/৩৩১ ও যাদুল মা‘আদ ২/৩৭৭।
[৩] বুখারী, ৪/৯৫, নং ৩২৯৩; মুসলিম, ৪/২০৭১, নং ২৬৯১।

محمد محمودالاسلام مقبول

Please Share This Post in Your Social Media

© 2020 islamicstorybd.com